• আজ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তানোরে অযথায় আবহাওয়া যন্ত্র !

| নিউজ রুম এডিটর ৫:০৯ অপরাহ্ণ | জুন ২৬, ২০২৩ সারাদেশ

রাজশাহীর তানোরে কৃষকদের কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পূর্বাভাস জানাতে ৩টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যালয়ে স্থাপন করা তথ্য বোর্ড, স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র বা রেইন গজ মিটার ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল কোনো কাজে আসছে না। জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৭ সালে ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্পের’ অধীনে উপজেলার বাধাইড়, পাঁচন্দর ও কলমা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আবহাওয়া তথ্য বোর্ড স্থাপন করা হয়।

সরেজমিনে ৩টি ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষি তথ্য বোর্ডে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি। যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পাখি বাসা বেঁধেছে কৃষি আবহাওয়ার তথ্য বোর্ডে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে এসব যন্ত্রপাতি। শুধু তা-ই নয়, কৃষি আবহাওয়ার তথ্য জানাতে যাঁদের জন্য এত আয়োজন, সেই কৃষকই তথ্য বোর্ডের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তানোরের ৩টি ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে কৃষি তথ্য বোর্ডে হালনাগাদ কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। বাধাইড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তথ্য বোর্ডে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়ের পূর্বাভাস, আলোক ঘণ্টার ১০টি তথ্যের নিচে সংখ্যার চাকাগুলো এলোমেলো হয়ে আছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্প’ নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ৪ হাজার ৫১টি ইউপিতে স্বয়ংক্রিয় রেইন গজ ও কৃষি আবহাওয়া তথ্য বোর্ড, ৪৮৭টি উপজেলায় কিয়স্ক (একটি ছোট, অস্থায়ী, একক বুথ, যার মধ্যে একটি টাচ স্ক্রিন আছে) স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবহাওয়া বিষয়ক তথ্য পাঠানোর জন্য ইন্টারনেট সংযোগসহ ৬ হাজার ৬৬৪টি ট্যাব সরবরাহ করা হয়। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ১১৯ কোটি টাকা। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে টাকার পরিমাণ বেড়ে হয় ২১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের (ইউপি) হাঁপানিয়া-দোগাছী গ্রামের কৃষক সিরাজুল ও মনিরুল বলেন, ফসলের জন্য আবহাওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পূর্বাভাস জানা জরুরি। অনেক সময় কোনো পূর্বাভাস না পাওয়ায় ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়। ইউনিয়ন পরিষদে আবহাওয়ার নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য ও পূর্বাভাস জানানোর ব্যবস্থা আছে, আগে কখনো শুনিনি।ইউপির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘কৃষি বিভাগের কর্মচারীদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের তথ্য বোর্ড হালনাগাদ করার কথা। কিন্তু তাঁরা ঠিকমতো হালনাগাদ করেন না। বিষয়টি দুঃখজনক। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, পদ্ধতিটি অ্যানালগ ভিত্তিক। উপজেলার কৃষি আবহাওয়া তথ্য বোর্ডগুলো কার্যকর আছে। আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিন এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বোর্ডে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, আগে ও পরের তিন দিনের কৃষিভিত্তিক আবহাওয়ার নানা তথ্য এই বোর্ডে হালনাগাদ থাকার কথা। তবে জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ সম্ভব হয় না।