• আজ ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

আবারও কাঁচা মরিচে উত্তাপ

| নিউজ রুম এডিটর ২:৩০ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৫, ২০২৩ অর্থনীতি

রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। দুইদিন আগেও যে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২৪০ টাকা কেজি, আজ (শুক্রবার) তা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে ঘিরে কেজিপ্রতি মরিচের দাম বেড়েছে ৮০ টাকা। ক্রেতারা বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বললেও দাম কমে আসার আশ্বাস দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজধানীর খুচরা বাজারে গত শুক্রবার (৭ জুলাই) কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ২৩০ টাকা দরে; আর পাইকারি দাম ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এর দুইদিন আগেই শহরের বাজারগুলোতে এই মরিচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পাইকারি কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এরপর বাজারে মরিচের দাম কমার পর এই সপ্তাহে আবারও কিছুটা বেড়েছে।

বাজারে শুধু কাঁচা মরিচ নয়, প্রতিটি সবজির দামই বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। বাড্ডা পাঁচতলা বাজারের ব্যবসায়ী মো. নাহিদ হোসেন বলেন, আজকের বাজার গতকালের তুলনায় কিছুটা বেশি। গতকালও কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছি ২৪০ টাকা কেজিতে, আজকে বিক্রি করছি ৩২০ টাকা কেজি। গত দুইদিনের তুলনায় অন্যান্য সবজি মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। পটল, ঢেঁড়স, বরবটি, শসা এগুলোর দাম বাড়েনি। এগুলো গতকালের দামেই আছে। বেড়েছে শুধুমাত্র কাঁচামরিচ, গাজর এবং টমেটোর দামটা। টমেটো গতকালের তুলনায় কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা, গাজর বেড়েছে ২০ টাকা।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাজরটা মূলত বাইরে থেকে আমদানি করা, সেখানেই দামটা বাড়ছে। কাঁচা মরিচের বাজার নিয়ন্ত্রণে নাই, একেকদিন একেক রকম থাকে। মাল আসলে দাম কিছুটা কম, না আসলেই দাম বেড়ে যায়। তাছাড়া আজ তো শুক্রবার, সালাদ আইটেমের দামটা একটু বেশিই থাকে এদিনে।

আব্দুল মালেক নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, যেসব পণ্য দেশের বাইরে থেকে আমদানি করে আনতে হয়, এই সপ্তাহে সেগুলোর দামটা একটু বেশি। যেমন- লেবুটা আমাদের দেশি, তাই দাম কম। লেবুর হালি ১০ থেকে ১৫ টাকা, ধনিয়া পাতা ১৬০ টাকা কেজি, টমেটো বিক্রি করছি বাংলাদেশিটা ১২০ টাকা আর ইন্ডিয়ানটা ২৪০ টাকা কেজি।

তিনি বলেন, বাজারে তুলনামূলক প্রায় প্রতিটি জিনিসেরই দাম বেশি, এটা আমরাও বুঝি। আমাদেরও সবকিছু কিনেই খেতে হয়। আমরা যদি বেশি দামে কিনেই আনি, তাহলে তো কমে বিক্রি করা সম্ভব না। পাইকারি বাজারে দাম যদি কমে, তাহলে আমরাও কমে বিক্রি করতে পারি।

বাজারের প্রবেশ মুখেই, আলু, পটল, চিচিঙ্গা, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি সাজিয়ে বসেছেন আকবর আলী। সবজির দাম বেশি প্রসঙ্গে এই বিক্রেতা বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি কম। যেরকম চাহিদা আছে, তার চেয়ে যদি সরবরাহ কম থাকে দাম তো বেশিই হবে।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী বিল্লাল হোসেন বলেন, আজকের বাজারে সবকিছুরই দাম বেশি। কাঁচা মরিচের দাম বাড়ছে ৮০ টাকা, মাছের দামও বেশি। রুই মাছ কিনলাম ৩৮০ টাকা কেজি করে। সবজির বাজারেও একই অবস্থা। ৩০-৪০ টাকার মধ্যে কোন সবজি নেই। এককথায় সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। সরকার যদি উদ্যোগী হয়ে দাম না কমায়, তাহলে তো জনগণের কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা যখন যেভাবে ইচ্ছা এভাবে পণ্যের দাম বাড়ায়, আর আমরা সেই দামেই কিনতে বাধ্য। একটা সময় ২০ টাকা দিয়ে মাছ কিনলে তিন-চার দিন খাওয়া যেত, আর এখন ২০ টাকায় বাজারে কোন সবজিও নেই। চার-পাঁচটা কাঁচা মরিচের দামই এখন ২০ টাকা।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না। মানুষের আয়-ইনকাম কমে গেছে। অসংখ্য মানুষ বেকার হয়ে ঘুরছে। এই অবস্থায় বাজার যদি এমন ঊর্ধ্বমুখী হয়, তাহলে আমরা বাজার করবো কী করে? আমাদের সংসার চলবে কী করে?

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা আর গোল বেগুন ১০০ টাকা, করলা (বড় সাইজ) ১২০ টাকা, করলা (ছোট) ১০০ টাকা, কাকরুল ৭০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও মূলা ৬০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, টমেটো ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।