• আজ ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সেপ্টেম্বরজুড়েই চূড়ান্ত আন্দোলন বিএনপির

| নিউজ রুম এডিটর ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ১৩, ২০২৩ বিএনপি, রাজনীতি, লিড নিউজ

সরকার পতনের একদফা দাবিতে আগস্টে কঠোর কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি। তবে সেপ্টেম্বরজুড়ে শুরু হবে চূড়ান্ত আন্দোলন। পহেলা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুরু হবে কঠিন আন্দোলনের নতুন চমক। ওই আন্দোলনে ধাপে ধাপে অনেক দল বিএনপির সঙ্গে মাঠে নামবে। এমনকি সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কয়েকটি দলও শেষ পর্বের আন্দোলনে হঠাৎ যুক্ত হতে পারে। এমন দাবি বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রের।

এদিকে শুক্র অথবা শনিবার এবং চলতি মাসের শেষদিকে আরও দুটি কর্মসূচি দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরে গণঅবস্থান, গণমিছিল, মানবপ্রাচীর, সমাবেশ, রোডমার্চ ও আদালতের সামনে অবস্থানের মতো কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে আবারও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

মূলত সেপ্টেম্বরকে আন্দোলনের চূড়ান্ত ধাপ হিসাবে ধরে পুরো পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিএনপি। তফশিল ঘোষণার আগেই সরকারের পতন নিশ্চিত করতে লাগাতার কর্মসূচিতে যাবে দলটি। এজন্য যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা দল ও জোটের নেতাদেরও যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সূত্রমতে, এ মাসের শুরু থেকে সমমনা দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে বিএনপি। এছাড়াও দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সভা করে দলটির হাইকমান্ড। নানা কারণে ভেবেচিন্তে আগস্টে কর্মসূচি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তাই এ মাসে কিছু সাংগঠনিক কাজ হাতে নিয়েছে বিএনপি। অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ দলটির সাংগঠনিক জেলায় ‘দুর্বলতা’ থাকলে তা দূর করতে যা যা প্রয়োজন তা নিয়ে কাজ করছে। কর্মসূচি সফলে শতভাগ নেতাকর্মীকে মাঠে নামানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাতে কর্মসূচি পালনে কোনো ধরনের দুর্বলতা বা সমন্বয়হীনতা না থাকে সেজন্য সাম্প্রতিক সময়ের কর্মসূচি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আন্দোলনের ছক আঁকা হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করছে। স্বৈরাচারী সরকারকে আরেকটা ধাক্কা দিতে হবে। সামনে এর বিকল্প কোনো পথ নেই। তাই দাবি আদায়ে অবশ্যই কঠোর আন্দোলনের বিকল্প ভাবছি না। এক্ষেত্রে চলমান কর্মসূচির বাইরে ধাপে ধাপে এমন কর্মসূচি আসবে, যেখানে জনগণের সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততার মধ্যে দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, সরকারকে পদত্যাগ করতেই হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে নির্বাচন। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, এ মাসে কয়েকটি সভা-সেমিনারের আয়োজন করছে বিএনপি। সোমবারও রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম : দুঃশাসনের দেড় দশক’ শীর্ষক এক সেমিনার রয়েছে। এছাড়া পহেলা সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তবে এবার ভিন্নভাবে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক কিছু নির্দেশনা তৃণমূলেও পাঠানো হয়েছে। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব কর্মসূচি একদফা আন্দোলনের অংশ হিসাবেই পালন করা হবে। এজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নেতারা জানান, শেষ ভাল যার, সব ভাল তার। অর্থাৎ যেভাবে আন্দোলন করা হোক না কেন, তা যদি আখেরে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য বয়ে আনতে না পারে তাহলে দল ও দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বয়ে আনবে।

এজন্য একদফার আন্দোলনকে বেগবান করতে বিএনপি কৌশলে এগোতে চায়। তবে এ পর্যন্ত নেওয়া পরিকল্পনা সফল হয়েছে বলে তারা মনে করেন। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করেই নতুন কৌশলে অগ্রসর হচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। মূলত ঢাকাকে টার্গেট করেই সেপ্টেম্বরে আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিতে কাজ করছেন। বিএনপি সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে শিগগিরই নতুন কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কথাও ভাবছেন নেতারা। সরকার পতন আন্দোলনে সেপ্টেম্বর মাসকেই ‘উপযুক্ত’ সময় হিসাবে দেখছেন। নেতারা বলছেন, সরকার অক্টোবরে তফশিল ঘোষণার কথা ভাবছে। তার আগেই বিরোধী দলগুলো সরকার পতনের দাবিতে ‘অলআউট’ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে। আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে আরও বেশ কয়েকটি দল যুগপৎ আন্দোলনে আসতে পারে। তখন একদফা বৃহত্তর গণআন্দোলনে পরিণত হবে বলে মনে করছেন তারা।

বিএনপির যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সরকারের পতন নিশ্চিত করতে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর আন্দোলন চলছে। এমনকি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দল বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত হবে। সেটি হবে একদফা আন্দোলনের সবচেয়ে বড় চমক। তিনি মনে করেন, ওই প্রেক্ষাপটে রাজপথের আন্দোলন তুঙ্গে অবস্থান করবে। আন্দোলনে জনস্রোত দেখে সাধারণ মানুষও ঘর থেকে বেরিয়ে আসবে। ইতোমধ্যে মানুষের মনের ভয় কাটতে শুরু করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, চূড়ান্ত আন্দোলনের ঢেউ যখন উঠবে তখন সরকারকে পদত্যাগ করার কথা বলতে হবে না। তারা এমনিতেই ক্ষমতা ছেড়ে দেবে।’

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘সোমবার বর্তমান পরিস্থিতি ও আন্দোলন নিয়ে করণীয় ঠিক করতে মঞ্চের বৈঠক রয়েছে। বিএনপির সঙ্গেও বৈঠক হবে। ইতোমধ্যে একদফা দাবিতে জনগণের মাঝে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই তা গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হবে।’

১২ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আমরাও সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে আছি। আগামীতে বিএনপি যে কর্মসূচি দেবে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে থেকে তা বাস্তবায়ন করব। এ আন্দোলন দেশনায়ক তারেক রহমান যেভাবে মনিটরিং করছেন, তাতে আশা করছি শিগগিরই দাবি আদায়ে আমরা সফল হব। দেশের জনগণ সরকারের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।’