• আজ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বলাৎকারের প্রতিশোধ নিতেই আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুদ্দিনকে হত্যা

| নিউজ রুম এডিটর ৭:৩৬ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২২, ২০২৩ সারাদেশ

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুদ্দিনের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পরিচয় হয় হাফেজ আশরাফুল ইসলামের। সেই পরিচয় আরও ঘনিষ্ঠ করে রোববার (২০ আগস্ট) বিকেলে বড় বাজার থেকে দেশীয় মদ ও পেয়ারা কিনে হলিডে মোড়ের হোটেল সানমুনের ২০৮ নম্বর কক্ষে উঠেন তারা। সেখানে দেশীয় মদ ও পেয়ারা খাইয়ে মাদ্রাসা ছাত্র আশরাফুলকে এক পর্যায়ে যৌন নির্যাতন করে সাইফুদ্দিন।

যৌন নির্যাতন করে সাইফুদ্দিন সেই ভিডিও ধারণ করেছে নিজের মোবাইলে। পরে বাইকে করে লালদিঘীর এসআলম কাউন্টারের সামনে নামিয়ে দিয়ে ১০০ টাকা দিয়ে চলে যেতে বলে।

তিনি জানান, ঠিক এক ঘণ্টা পর আবারও ফোন করে হোটেলে ডাকে সাইফ। সেখানে আবারও চেষ্টা করা হয় যৌন নির্যাতনের। তখন এক পর্যায়ে নিজের উপর বলাৎকারের প্রতিশোধ নিতেই আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুদ্দিনকে হত্যা করে মাদ্রাসা ছাত্র আশরাফুল ইসলাম।

সোমবার রাতে টেকনাফের হোয়াইক্যংপুলিশ ফাঁড়ির এসআই রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রাস্তায় ব্রিগেড দিয়ে গাড়ি তল্লাশি করার সময় পালকি গাড়ি থেকে আশরাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম।

এসপি বলেন, ভুক্তভোগী ও ঘাতক পূর্বের পরিচিত। সে সুবাধে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু যখন সম্পর্কটি মোবাইলে ধারণ করা হয় তখন আশরাফুল ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরপরে পরিকল্পনা অনুযায়ী, মদ খাওনোর পর চাদর দিয়ে মুখ চাপা দিয়ে, বেল্ট দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলেন। তারপর ছুরি দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সে ভিডিও ধারণকৃত মোবাইলটা আলামত নষ্টের জন্য ভেঙে ফেলেন।

তিনি আরও বলেন, ভেঙে ফেলা মোবাইল, ব্যবহৃত ছুরি, ভিকটিমের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। এটি প্রাথমিক স্থর। পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে।

এর আগে গেল সোমবার সকাল ১০টার দিকে শহরের হলিডের মোড়ে ‘সানমুন’ আবাসিক হোটেলের ২০৮নং কক্ষে সাইফ উদ্দিনের মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহত সাইফুদ্দিন পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি শহরের ঘোনারপাড়া এলাকায়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যমের প্রকাশের পর থেকে চারদিকে হইচই পড়ে যায়। প্রকাশ্যে আসে আশরাফুলের পরিচয়।