• আজ ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সাঈদীর মৃত্যু ইস্যুতে ‘বহিষ্কার’ কেন, জানালেন ছাত্রলীগ সম্পাদক ইনান

| নিউজ রুম এডিটর ৪:৩৭ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৫, ২০২৩ জাতীয়, বাংলাদেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। রাজনীতিকরাও শোক প্রকাশ করেছেন।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শোক জানিয়ে নিজস্ব ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এর পরই ছাত্রলীগের প্রতিটি জেলা-উপজেলা থেকে শোক প্রকাশ করা নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করা শুরু হয়।

ফেসবুক পোস্ট ইস্যুতে অনেকেই ধারণা করেন— ভিন্ন আদর্শের রাজনীতি করলেও ধর্মীয় আলোচক হিসেবে ব্যক্তি সাঈদীকে ভালোবাসে হয়তো ছাত্রলীগ নেতারা পোস্ট দিয়েছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন— শোক প্রকাশ করা নেতাকর্মীরা অনুপ্রবেশকারী হতে পারে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনাসভা শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

এ সময় ইনানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সাঈদী মারা যাওয়ার পর ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী শোক প্রকাশ করেছেন। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে— অধিকাংশ জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। এর কারণ কি?

ইনান বলেন, কোনো নেতা বা কর্মী মুখে, শিক্ষা শান্তি প্রগতির পতাকা ধারণ করবে, আর হৃদয়ে মানবতাবিরোধীর জন্য মায়াকান্না হবে— এটি কোনোভাবেই আমাদের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে পারে না। এ সংগঠনে স্বাধীনতাবিরোধীদের ঠাঁই হতে পারে না। অর্ধকোটি সদস্যের একটি সংগঠন। সংগঠনের সুযোগের ফাঁক বলে কিছুটা ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পারে, তবে এগুলো প্রশ্রয় দেয় না।

এখন পর্যন্ত কতজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে?

জবাবে ইনান বলেন, ছাত্রলীগ একটি বৃহৎ সংগঠন। এখানকার শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অত্যন্ত জোরালো। মুক্তিযুদ্ধে মূল্যবোধে বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের উদারতাকে কাজে লাগিয়ে অনেকে অনুপ্রবেশ করেছে। এদের ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। এটি ছাত্রলীগের অপ্রাসঙ্গিক হিসেবেই প্রতিটি ইউনিটের কিছু নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

৫০ লাখ নেতাকর্মীর মধ্য থেকে কিছু অনুপ্রবেশকারী নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সঠিক সংখ্যাটা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।

এর আগে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেছিলেন, ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী সাঈদীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে আমাদের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।