
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন : রাষ্ট্রপতির ঐচ্ছিক অনুদানের অর্থ জাল চিকিৎসাপত্রের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ মামুন রুম্মান (রেজি: নং- এ–৯২৩১৬), বর্তমানে সৈয়দপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত। তিনি তার ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের নামে দূরারোগ্য মরণব্যাধিতে আক্রান্ত দেখিয়ে জাল চিকিৎসাপত্র তৈরি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে তার বোন মোসা. সাজেদা হক মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট মিথ্যা তথ্য প্রদান করে অনুদানের জন্য আবেদন করেন। পরে প্রতারণামূলক উপায়ে রাষ্ট্রপতির ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, যে তহবিল প্রকৃত অসহায় ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তার জন্য বরাদ্দ, সেটি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মাধ্যমে এই অনুদানের অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তারা হলেন—(১) মোসা. সাজেদা হক, (২)মোসা. সায়লা হক, (৩) মোসা. সাইফুন নাহার,(৪) মোসা. শামীমা খাতুন, (৫) সানজিদা হক লাবনী, (৬)মো. আলী আনাম নয়ন।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতির ঐচ্ছিক অনুদান শাখা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এ ধরনের জালিয়াতি, প্রতারণা ও রাষ্ট্রীয় অনুদান আত্মসাতের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং এটি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পি নিউজ/ বিসিএস চিকিৎসক






















