• আজ ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতাল বিনা অনুমতিতেই অপারেশন

| নিউজ রুম এডিটর ৬:১৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ২৫, ২০২২ ঢাকা, সারাদেশ

মোঃরফিকুল ইসলাম মিঠু।। ঘটনাটি ঘটেছে ২৪ জানুয়ারি সন্ধা ৬ টায় রাজধানীর কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে অামার ভাবী ক্যান্সারে আক্রান্ত, সেইসাথে ডেঙ্গু, জন্ডীস ও করোনা পজিটিভ। গত ২০ জানুয়ারী রাত ১২ টায় তাকে কল্যণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করাই। কথাগুলি বলেন ওবায়দুল হক খান( জয়েন্ট এডিটর দ্যা ডেইলি স্টেট।

তিনি আরো বলেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শরীরে রক্তের প্রয়োজন হওয়ার আমরা তাকে রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করি। বিকেল ৩ টায় তাকে ক্যানোলা পড়ানোর নাম করে, অামাদের কারও কাছ থেকে কোন রুপ সম্নতি ছাড়াই,সম্পুর্ন অামাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার ভাবী রিনা খান (৪৫) কে হাসপাতালের একাডেমিক ভবনের অপারেশন থিয়েটার নিয়ে যায়। উপস্থিত তাঁর সন্তান,বোন, স্বামী, দেবরসহ অাত্বীয় স্বজনদের কোনরুপ সম্মতি ছাড়াই, এমনকি জেনারেল এ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই তার শরীরে অশ্রপাচার চালায়। অপারেশন থিয়েটারের পাশের কক্ষে অপেক্ষমান তাঁর মেয়ে সুহা খান তাঁর মায়ের আর্তনাথ শুনতে পায়। হঠাৎ তাঁর অার্তনাথ বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে অামার ভাবী সংঙ্গাহীন হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ওটি এ্যাসিস্টান্ডরা তড়িগড়ি করে আমার ভাবীকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে,১৩০৯ কেবিনে নিয়ে অাসে। কেবিনে আনার পরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে, অপারেশন থিয়েটার কোন এ্যানেস্থিস্ট ও কোন চিকিৎসক ছিলো না। ওটি এ্যাসিস্টেন্ট দিয়ে কোনরুপ এ্যানেস্থেস্টি ছাড়াই জেনারেল বা লোকাল এ্যানেস্থেসিয়া না দিয়ে অপারেশন করার ফলে তাঁর অকাল মৃত্যু হয়েছে। ইবনে সিনা হাসপাতাল কতৃপক্ষ টাকার লোভে বিনা প্রয়োজনে এবং বিনা সম্মতিতে অশ্রপাচার করে অামার ভাবীকে হত্যা করেছে। নিস্পাপ দুটি কন্যা সন্তানকে মাতৃহারা করেছে।

রোগীটি মুমূর্ষু হয়ে পড়লে এ হাসপাতালে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এমনকি কোন সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের ডাক্তারও পাওয়া যায় নি। বহু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ডাক্তারদের নাম দিয়ে এ ইবনে সিনা হাসপাতালে সাইনবোর্ড টানানো থাকলে, এ সব ডাক্তারদের দেখা নেই।

এ হাসপাতালটি চিকিৎসার নামে কসাইখানা। চিকিৎসার নামে এ হাসপাতালে বিভিন্ন ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে। একটি কেবিন দিন প্রতি সাড়ে ৮ হাজার টাকা ভাড়া। প্রতিটা টেস্ট চড়া মুল্য ধরে ডিসকাউন্টের নাম প্রতারনা করে। এক ব্যাগ রক্ত ট্যানেসফারের নামে ২৬ হাজার টাকা বিল করেছে। ৪ দিন রুম ভাড়া, টেস্ট ও চিকিৎসার নামে ৪ লক্ষাধীক টাকা বিল ধার্য করেছে। সন্ধা ৫ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত এ পাঁচ ঘন্টায় পুরো ইবনে সিনা হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার বাদে কোন একজন সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের কোন ডাক্তারকে পাওয়া যায় না। অামি মনে করি এটা কোন হাসপাতাল না, টাকার লোভে এটা মানুষ হত্যার কারখানা।

এ হত্যাকান্ডের শত শত এলাকাবাসী হাসপাতালে ছুটে অাসে এবং এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠেন। এ হত্যাকান্ডের সংবাদ পেয়ে মিরপুর মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর সুজন ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে, অামাদের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেন। এ ছাড়া হত্যাকান্ডের বিষয় গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত পূর্বক রাতেই তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন।