• আজ ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর সঙ্গে বৈঠক শেষে যা বললেন আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলাগুলো বিচারের সময় নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী কম সাজা দেওয়া যায় কিনা, সেই বিষয়ে ভাবছে সরকার। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বসব।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইসের সঙ্গে বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সোমবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নাম পরিবর্তন ও বেশ কিছু ধারা সংশোধন করে নতুন আইন করা হয়।

বৈঠক শেষে করিডোরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগে যে মামলাগুলো হয়েছে সেগুলো নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব। তার কারণ হচ্ছে আইনের অবস্থান হচ্ছে এটা যেসব অপরাধ পুরনো আইনে করা হয়েছে, সেই পুরনো আইনে যে শাস্তি সেই শাস্তি যে অপরাধ করেছে তাকে দিতে পারে আদালত। সেই বিষয়টি আমরা চিন্তাভাবনা করব। সাইবার নিরাপত্তা আইনে শাস্তির পরিমাণ যেহেতু অনেকাংশে কমানো হয়েছে এবং সেই কমানোটাই সরকারের এবং আইনসভার উদ্দেশ্য। সেই কমানোটা যাতে বাস্তবায়িত হয় সেই চেষ্টা করব।

সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামটি বদলে নতুন নাম হবে সাইবার নিরাপত্তা আইন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধিকাংশ ধারা নতুন আইনেও থাকবে। তবে বিতর্কিত বিভিন্ন ধারায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যেসব ধারা নিয়ে বেশি বিতর্ক ছিল, কয়েকটি ক্ষেত্রে সেগুলোর সাজা কমিয়ে আনা হবে। জামিন অযোগ্য কয়েকটি ধারাকে সংশোধন করে জামিনযোগ্য করা হয়েছে।

মানহানি মামলায় কারাদণ্ডের বিধান বাদ দিয়ে শুধু জরিমানার বিধান করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে কমানো হবে সাজা। দুই বছরের সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার সংখ্যা ৭ হাজার ১টি। দেশের সাংবাদিক, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি ও উদ্বেগের মধ্যে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ব্যাপক সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হলেও পুরনো আইনের বাতিল হওয়া ধারাগুলো নতুন আইনে রেখে দেওয়ায় এর অপপ্রয়োগের শঙ্কা ছিল উদ্বেগের কেন্দ্রে।

আইনটি বাতিলের দাবিতে দেশে বিভিন্ন সময়ে সোচ্চার হয়েছেন অধিকারকর্মীরা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারও এই আইনের ব্যবহার অবিলম্বে স্থগিত করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের শর্তের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। মন্ত্রিসভায় আইনটি পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস হওয়ার পর মঙ্গলবার আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।

বৈঠকের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, উনি বলেছেন নতুন আইন (সাইবার নিরাপত্তা আইন) করা হয়েছে এটা এখনো সম্পূর্ণভাবে দেখেননি। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছেন না। তবে যে পরিবর্তনের কথা শুনেছেন সেটা যদি হয়ে থাকে, তবে তিনি খুশি হবেন। সাইবার নিরাপত্তা আইনের একটি দফার মধ্যে আছে যে এ আইন প্রণয়নের পর ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট রহিত হয়ে যাবে, বিষয়টি গোয়েন লুইসকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মধ্যে যেসব টেকনিক্যাল ধারাগুলো ছিল, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মধ্যেও সেই টেকনিক্যাল ধারাগুলো আছে। সেজন্য আমি সবসময় বলে আসছি এটা পরিবর্তন হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধন হয়নি আবার কেউ যদি বলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট রহিত করা হয়েছে সেটাও সম্পূর্ণভাবে ঠিক হবে না। পরিবর্তন হয়েছে এবং পরিবর্তনগুলো এতই বেশি ছিল যে তখন যদি আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামটা রাখতাম তাহলে নামটা হতো ডিজিটাল সিকিউরিটি সংশোধিত আইন। যখন ডিজিটাল আইন পড়তে হতো তখন সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা সংশোধনী আইনটাও সঙ্গে রাখতে হতো। এটা কনফিউজিং হতো। সেজন্য এটাকে সম্পূর্ণ পাল্টিয়ে নতুন এবং সাইবার নামটা রাখা হয়েছে এটার ব্যাপ্তি বাড়ানোর জন্য। সেজন্য এটার নাম সাইবার নিরাপত্তা আইন দেওয়া হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা আইনও জনগণের ভোগান্তির কারণ হবে বলে বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, উনারা (বিএনপি) জিনিসটা না পড়ে মন্তব্য করেছে। অবশ্যই উনারা বোঝেন নাই বলেই এই কমেন্টটা করেছেন। উনারাও দেখেন, আপনারও (গণমাধ্যমকর্মী) দেখেন, তারপরে যদি আলাপ করতে চান তখন করব।

আইনজীবী শাহদীন মালিকসহ কয়েকজন আইনজীবী বলেছেন, নতুন আইনে মানুষের হয়রানি কমবে না এবং এ আইনে পুলিশকে অবারিত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আনিসুল হক বলেন, উনারা আমাদের কোনো পদক্ষেপই ভালো মনে করেন না। তবে আমাদের পদক্ষেপগুলো দেশের ভালো হয়।