

বিশেষ প্রতিবেদক: ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলাধীন, নজরুল নগর ইউনিয়নের শামছুদ্দিন ওরপে চর্দির পুত্র র্যাব নারায়ণগঞ্জ এ কর্মরত বিজিবি সদস্য দলিল উদ্দিন ওরফে দুলাল। ছোট বেলা থেকেই বখাটে ছিল, স্থানীয় মানুষের হাঁস, মুরগী, গরু,ছাগল, পুকুরের মাছ, নারিকেল ও সুপারি চুরিতে ছিল সিদ্বহস্ত। পারিবারিক অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়, দিনে একবেলা আধাপেট খেয়ে কোনরকম চলে যাচ্ছিল তাদের জীবন।
২০১৪-২০১৫ সালে তার মামা বিজিবি সদস্য সালাহউদ্দিন এর মাধ্যমে ঘুষের বিনিময়ে বিজিবিতে চাকরি নেয় দলিলউদ্দিন দুলাল। জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি নিয়ে প্রথমেই পল্টি নেয় তারই মামা সালাউদ্দিন এর সাথে।মামা সালাউদ্দিন এর মাধ্যমে চুক্তিকৃত ঘুষের টাকা চাকরি হওয়ার পরও দেয়নি। এ নিয়ে মামা ভাগিনার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ বিদ্যমান।
বিজিবিতে চাকরি হওয়ার পর রাতারাতি আংগুল ফুলে কলাগাছ বনে যায় দলিল উদ্দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আলাদিনের চেরাগের মতো তাদের অবস্থার দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়।
বিজিবি ও সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নাম করে ভোলা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এছাড়াও ঢাকায় আলমগীর নামে এক ভুয়া আদমবেপারির সাথে যোগ-সাজসে ঢাকার পল্টনে ছোট্র একটি অফিস রুম সাবলেট ভাড়া নিয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে শুরু করে প্রতারনার ব্যবসা। লোভনীয় অফারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে শত শত মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তার ছোট ভাই ইমন মধ্যপ্রাচ্যে থাকলেও ডেনমার্কের মিথ্যা তথ্য প্রচার করে, ডেনমার্ক ও ইউরোপে পাঠানোর নাম করে্ও সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
এই প্রতারকের বিরুদ্বে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মানুষের কাছে জমি বিক্রির কথা বলে টাকা নিয়ে তাদেরকে দলিল না দিয়ে বছরের পর বছর ঘোরায় এই প্রতারক ও তার পরিবার।
এসব প্রতারিত মানুষ তাদের পাওনা চাইতে আসলে, পাওনাদারদের র্যাব ও বিজিবির ভয় দেখায়। এদিকে স্থানীয় মানুষের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এই প্রতারক এলাকার বিভিন্ন দোকান থেকে বাড়ি করার জন্য রড, সিমেন্ট, ইট -বালু বাকিতে এনে পাওনাদারদের বছরের বছর পাওনা পরিশোধ করে না।পাওনাদার বা জিম্মাদারগণ পাওনার জন্য বাড়িতে গেলে, তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের ভয় দেখায় এবং দুলালের মা নজুফা কে ব্যবহার করে শ্লীলতাহানির মামলা দেয়ার হুমকি দেয়।
সম্প্রতি ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে উঠতি বয়সী তরুনদের সার্বিয়া পাঠানোর নাম করে হাতিয়ে নেয় প্রায় বিশ লক্ষ টাকা। পাসপোর্টের সাথে ২/৩ লাখ টাকা নিয়ে পর্যায়ক্রমে ৬/৮/১২ মাস পর্যন্ত ঘুরিয়ে ভিসা না দিয়ে, ভুয়া এপ্রুভাল দিয়ে আবারও টাকা চায়।এতে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হলে তারা যাচাই করে দেখেন উক্ত এপ্রুভাল ভুয়া।এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে প্রতারক চক্রের দুই সদস্য বিজিবি সদস্য দুলাল ও আলমগীরকে অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
একপর্যায়ে উক্ত গ্রুপের সমন্ময়ক ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিন জয়নগর ইউনিয়নের, মাতবর বাড়ির ফরিদের ছেলে আরিফুর রহমান (৩০) সহ অন্যান্যদের পাসপোর্ট ফেরত দিলেও সম্পূর্ন টাকা এই প্রতিবেতন লেখা পর্যন্ত ফেরত দেয়নি।
দলিল উদিনের প্রতারনার শিকার আরেক ভুক্তভুগি একই বাড়ির জাহাংগীর আলমের ছেলে শামিম (২৩) কে সার্বিয়া পাঠানোর কথা বলে প্রায় ১৪ মাস আগে ১ লক্ষ টাকা নেয়। এ পর্যন্ত শতাধিকবার তাকে পাঠানোর তারিখ দিলেও কার্যত কিছুই করেনি এই প্রতারক। উক্ত শামিমের নামেও ভুয়া ওয়ার্কমিট প্রদান করে আরেক দফায় টাকা দাবী করলে, যাচাই করে দেখা যায় উক্ত পারমটিও ভুয়া।
একইভাবে দলিল উদ্দিনের প্রতারণার শিকার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার, দেওটি ইউনিয়ের যুবক হৃদয় (২৫)। হৃদয়ের আপন চাচা আমেরিকা প্রবাসী মিজানুর রহমান হৃদয়কে সার্বিয়া পাঠানোর জন্য এক বছর পূর্বে তিন লক্ষ টাকা দেন প্রতারক উদ্দিন কে। এক বছরে শতাধিক তারিখ দিয়েও হৃদয়ে ভিসা করেনি এই প্রতারক।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের কয়েকজন এই প্রতিবেদককে জানান, অবিলম্বে এই প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা সহ র্যাব ও বিজিবি থেকে তাকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে যেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।