• আজ ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
 নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলায় ছাত্রদল জড়িত নয়’ | নাহিদের তাণ্ডবে কুপোকাত পাকিস্তান, ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের | শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত মালিক সমিতির | আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী | গুম-খুনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর | মানুষের সঙ্গে মিশে যাবেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে নেতৃত্ব দিবেন — জেলা প্রশাসকদের প্রতি এলজিআরডি মন্ত্রী | স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্নে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী | তেল পাচার রোধ ও ঈদকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার | মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা | টেকনাফে গহীন পাহাড়ে মিলল ৩ জনের রক্তাক্ত মরদেহ |

হামলা ও অপহরণের অভিযোগ আ,লীগ পরিচয়ে ভারতে আশ্রয় প্রার্থী চার বাংলাদেশি আটক

| নিউজ রুম এডিটর ১:৩০ পূর্বাহ্ণ | ১২/০৮/২০২৫ আইন ও আদালত, আন্তর্জাতিক

সিলেট ।। সুনামগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস জেলার রংডাঙাই গ্রামে অভিযান চালিয়ে চার বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও রাজ্য পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি পুলিশ কনস্টেবল পরিচয়ধারীও রয়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, শনিবার (৯ আগস্ট) সকাল বেলায় সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে ওই গ্রামে ঘুমন্ত গ্রামবাসীর ওপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে আটকৃতদের বিরুদ্ধে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বিষয়টি বিএসএফ ও পুলিশকে জানালে যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আটক চারজন হলেন, জামালপুর সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম, একই জেলার মারফুর রহমান (বাংলাদেশ পুলিশ কনস্টেবল পরিচয়ধারী), নারায়ণগঞ্জের সায়েম হোসেন এবং কুমিল্লার মেহফুজ রহমান। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভারতেরর স্থানীয় বাসিন্দা বালসাং এ. মারাককে আক্রমণ ও অপহরণের চেষ্টা করেছিলেন আটকৃতরা। এই হামলায় মারাক মারাত্মকভাবে আহত হন এবং তাকে শিলং সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মেঘালয়ের পুলিশ সুপার বানরাপলাং জিরওয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একজন অভিযুক্ত দাবি করেন তিনি তক্ষক শিকার করতে এসেছিলেন। অন্য তিনজন জানিয়েছেন, তারা আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় দেশে রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি এবং আশ্রয় নিতে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছেন। তবে পুলিশ বিষয়টি যাচাই করছে।

অভিযানস্থল থেকে মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ সদস্যরা একটি বাংলাদেশ পুলিশ আইডি কার্ড, হাতকড়া, পিস্তল হোলস্টার, একটি ম্যাগাজিন কভার, রেডিও সেট, মোবাইল ফোন, মুখোশ, কুঠার, তার কাটার যন্ত্র, বাংলাদেশি মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত আইডি কার্ড, যা আটক মারফুর রহমানের বলে দাবি করা হয়েছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পাহাড়ি জঙ্গল থেকে বিএসএফ ও পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা চার বাংলাদেশিকে ধরে আনছে। এ সময় বিপুল সংখ্যক স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করছিলেন এবং গ্রেফতারের আগে আটককৃতদের ওপর শারীরিক হামলাও চালান।

শিলং ট্রেন্ডজ ইউটিউব চ্যানেল এবং ইস্টমোজো অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আটককৃতদের হিন্দিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের হাতে হাতকড়া পরানো রয়েছে।

ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জ সীমান্ত জনপদের নানা শ্রেণি পেশার মানুষজন প্রশ্ন তুলেছেন তাহিরপুরের বিরেন্দ্র নগর, চারাগাঁও (কলাগাঁও) সীমান্তের স্থানীয়দের কোন মানবপাচার চক্র জড়িদ থাকতে পারে। আ,লীগ সরকার পতনের পর একাধিকবার ওই বিরেন্দ্রনগর , চারাগাঁও (কলাগাঁও) সীমান্ত পথে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভারতে বার বার বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার এমনকি পুশব্যাকের ঘটনা অহরহ ঘটেই যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জাকির হোসেন জানান, ভারতীয় গণমাধ্যমে যে বাংলাদেশি পুলিশ কনস্টেবলের কথা বলা হচ্ছে, তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন, তবে পরবর্তীতে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ বিজিবি,সুনামগঞ্জ-২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, তাহিরপুর সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় আট কিলোমিটার ভেতরে ভারতীয় ভূখন্ডে বিএসএফ, মেঘালয় পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা ৬-৭ জন মিলে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল ‘অসৎ’। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।