• আজ ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাজীপুর সদরে কলেজের পাশে ময়লার স্তূপ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে, শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণ

| নিউজ রুম এডিটর ৮:৫৩ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২ ঢাকা, সারাদেশ

কামাল হোসেন, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনার স্তূপের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীসহ ঘুরতে আসা পার্কের দর্শনার্থীরা। অবিলম্বে ময়লার স্তূপ পরিষ্কার করে পরিবেশ সুরক্ষার দাবি তাদের।

গাজীপুর সদর উপজেলা শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে ছোট বড় কল-কারখানা সহ অনেক বিনোদন কেন্দ্র। আর এসব কারখানা ও বিনোদন কেন্দ্র কে ঘিরে বসবাস করে কয়েক লক্ষাদিক শ্রমজীবী সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। তাদের প্রতিদিনের অপ্রয়োজনীয় ময়লা সহ বিভিন্ন কারখানার আবর্জনাও ফালানো হচ্ছে মহাসড়কের উপর।

তার সাথে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ একটি কলেজ ও বাংলাদেশের বৃহত্তর বঙ্গবন্ধু শেখ মজিব সাফারি পার্ক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ ও পার্কে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করতে হয়, ভবানীপুর ইউ টার্ন এর মহাসড়কটি। এ রকম আরো অনেক রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্রেও যাতায়াত করতে হয় এই সড়কটি দিয়ে।

সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ময়লা নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এক শ্রেণীর অসাধু লোক বাড়ি প্রতি টাকা নিয়ে মহাসড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করেছেন। এতে করে যেমন বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। অন্যদিকে এলাকাবাসীসহ দেশ বিদেশ থেকে ঘুরতে আশা দর্শনার্থীদের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবানীপুর বাজারের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এর পাশেই রয়েছে গাজীপুর সদর উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ভবানীপুর মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, যেখানে ঘুরতে আসে দেশ বিদেশের অনেক দর্শনার্থীরা। পার্কের প্রবেশ পথে মহাসড়কের ময়লা-আবর্জনায় মহাসড়কের সৌর্ন্দয যেমন নষ্ট হচ্ছে। আর এসব আবর্জনার স্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে। হাজারো যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীকে নাকে রুমাল চেপে চলতে হয়।

ছাত্র-ছাত্রী ও শিল্প কারখানার শ্রমিকরা জানান, পরিবেশ যেমন ময়লা দিয়ে নষ্ট করছে। তার পাশাপাশি প্যারাগন হ্যাচারি নামক একটি মুরগীর বাচ্চা ফুটানোর কারখানার নষ্ট ডিম ও মৃত মুরগীর বাচ্চা বস্তায় বরে মহাসড়কের উপর এনে ফালাচ্ছে। এতে করে পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে বিষে পরিণত হচ্ছে। এতে করে অসুস্থ হয়ে পরছে শিক্ষার্থীসহ অনেক শ্রমিক ও জনসাধারণ।

একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে শ্রমিক, কর্মচারীসহ আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি। দুর্গন্ধের কারণে পার্কের দর্শনার্থীসহ ক্রেতারা আসতে চান না।

এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা জানান, মহাসড়কের সৌর্ন্দয ফিরিয়ে আনতে এবং বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে যাতায়াতের সুব্যবস্থা করে দর্শনার্থীদের উৎসাহ করতে না পারলে হারাতে পারে দেশ-বিদেশের বিনোদনপ্রেমী দর্শনার্থীদের।

প্যারাগন হ্যাচারি জেনারেল ম্যানেজার বিপ্লব অস্বীকার করে জানান, আমাদের কোন ময়লা-আবর্জনা মহাসড়কের পাশে ফেলানো হয় না।
এ ব্যাপারে ভাওয়ালগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বিভিন্ন কারখানার ময়লা আবর্জনা মহাসড়কে ফেলতে নিষেধ করাসহ সাধারন মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ তা মানছে না। তবে দ্রুত সময়ে স্থায়ীভাবে ময়না নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান।