• আজ ২০শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সালাম দিতে দেরি, ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে

অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কারণে সালাম দিতে দেরি হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্য সেন হলের এক শিক্ষার্থীকে কিলঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে একই হলের আরেক শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের কর্মী মানিকুর রহমান ওরফে মানিকের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার রাত এগারোটার পর হলের ২৪৯ নম্বর কক্ষে মারধরের এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মানিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিয়াম রহমানের অনুসারী।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী সাজ্জাদুল হক নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। ঘটনার বিচার চেয়ে হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর বর্ণনা থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে হলের ২৪৯ নম্বর কক্ষে অনলাইনে একটি টিউশনের ক্লাস নিচ্ছিলেন সাজ্জাদুল হক। এর মধ্যে মানিকুর রহমানসহ চতুর্থ বর্ষের কয়েক ছাত্র কক্ষটিতে আসেন এবং সাজ্জাদুলকে ডাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের ঠিক করা অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে দেখলে তাকে গিয়ে জুনিয়রদের সালাম দিতে হবে এবং করমর্দন (হ্যান্ডশেক) করতে হবে।

অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কারণে সাজ্জাদের সালাম দিতে দেরি হওয়ায় ক্ষেপে যান সিনিয়ররা। ওই ‘অপরাধে’ই তাকে মারা হয়। সাজ্জাদ বলেন, ‘ক্লাস চলার সময়ই মানিকুর আমাকে কলার ধরে টান দেন। একটু পরে ক্লাস শেষ করে খাটের সামনে যেতে না যেতেই মানিকুর আমার কান ও মুখে সজোরে থাপ্পড় দেন। তিনি আমাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। মানিকুর আমাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকেন এবং একপর্যায়ে জোরে লাথিও দেন।’

তবে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে মানিকুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি সাড়া দেননি। এদিকে, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন।

এ বিষয়ে সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষ মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা হলের আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির সদস্যরা হলেন-অধ্যাপক আহমেদ উল্লাহ, মোবারক হোসেন ও আজহারুল ইসলাম। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে জানতে হল ছাত্রলীগের সভাপতি সিয়াম রহমানকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন পিপলস নিউজ‘এ । আজই পাঠিয়ে দিন feature.peoples@gmail.com মেইলে