• আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রেল লাইনের পতিত জমিতে আনারস চাষে কৃষকের মুখে হাসি

| নিউজ রুম এডিটর ৩:৪৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৪, ২০২২ লালমনিরহাট, সারাদেশ

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের আদিতমারীতে রেল লাইনের পতিত জমিতে আনারসের চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক আব্দুল কাদের।

কৃষক আব্দুল কাদের ওই উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের লাল ব্রীজ এলাকার বাসিন্দা।

কৃষক আব্দুল কাদের জানান, ভারতের শিলিগুরি আনার কলি জাতে আনারস নিয়ে এক বন্ধু বেড়াতে আসেন কৃষক আব্দুল কাদেরের বাড়িতে। সুমিষ্ট সেই আনারস খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে তার জাত বাড়ানোর স্বপ্নের বাড়িতে রোপন করেন আনারসের কান্ড। সেই গাছ বড় হয়ে ফল দিলে অবাক হন তিনি। বাড়াতেই থাকেন আনারসের চারা। সেই থেকে বাড়িতেই আনারস চাষ শুরু হয় কৃষক আব্দুল কাদেরের। স্বপ্ন দেখেন বাণিজ্যিক ভাবে আনারস চাষাবাদের। কিন্তু উপযোগী জমি ছিল না।

পানি জমে না এমন ঢালু ও উচু জমি আনারস চাষের জন্য বেশ উপযোগী। লালমনিরহাটের জমি সব সমতল হওয়ায় শখ থাকলেও আনারস চাষে লাভের সুযোগ খুবই কম। কিন্তু কৃষক আব্দুল কাদের লালমনিরহাটেই আনারস চাষের স্বপ্ন বুনেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন পুরনে বাড়ির পাশে লালমনিরহাট-বুড়িমারী রেল লাইনের পতিত ঢালু জমিতে ২০০৮ সালে আনারস চাষের উদ্যোগ গ্রহন করেন। বাড়িতে লাগানো আনার কলি জাতের আনারসের চারা পরীক্ষা মুলক রেল লাইনের দু’ধারে রোপন করেন। বেশ সুফল পেয়ে প্রতিবছর রেল লাইনের ধারেই বাড়তে থাকে আনারসের বাগান।

আনারকলি জাতের এ আনারস ভারতের শিলিগুরিতে তিন থেকে সাড়ে তিন কেজি ওজনের হলেও আব্দুল কাদেরের বাগানে ফলেছে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজন পর্যন্ত। তবে ওজন যাই হোক স্বাদে কমতি নেই। সুস্বাদু আনারকলি জাতের এ আনারসের চাহিদা প্রচুর থাকায় বিক্রিতে কোন ঝামেলা নেই। ক্ষেত থেকে নগদে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা প্রতি পিচ। এ বছর প্রায় ৫হাজার পিচ আনারস বিক্রি করেছেন। এ ছাড়াও বন্ধু বান্ধব আত্নীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের স্বাদ গ্রহনে ফ্রিতে দিয়েছেন।

কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, আনানস এমন একটা ফসল যার চারা একবার লাগালেই চলে। প্রয়োজন শুধু পরিচর্যা করা। ফল বড় হলে তা সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে জাগ (ঝাউ জঙ্গল দিয়ে ঢেকে রাখা) দিয়ে রাখতে হয়। পরে পাকলেই তা বিক্রি করতে হয়। তাই উৎপাদন খরচ নেই বললেই চলে। এজন্য রেল লাইনের পতিত জমিতে চাষাবাদ করেছি। আনারস চাষে রেল লাইনের কোন ক্ষতি করে না। বরংচ মাটির ক্ষয়রোধ করে। রেল কর্তৃপক্ষ অনুমতি আর সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত পুরো রেললাইনে আনারসের বাগান করতে চাই। তাতে এক দিকে দেশের আনারসের চাহিদা মেটার পাশাপাশি রেল লাইনের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে। দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে রেল লাইনের পতিত জমির আনারস বাগান।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এক ইঞ্চি জমি যেন পতিত না থাকে। তাই রেল লাইনের পতিত জমি আমি কাজে লাগিয়েছি, আনারস চাষে। সারাদেশের রেল লাইনে আনারস চাষ করা সম্ভব -যোগ করেন কৃষক আব্দুল কাদের।

কৃষক আব্দুল কাদেরের প্রতিবেশী উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, কৃষক আব্দুল কাদের একজন সফল কৃষক। তার অনেক বাগান রয়েছে। নিজ উদ্যোগে আনারস বাগান করলেও মাঝে মধ্যে কৃষি বিভাগের পরামর্শ দেয়া হয়। আনারসে রোগ বালাই কম এবং উৎপাদন খরচও অনেক কম। কম খরচে অধিক লাভবান হতে ঢালু জমিতে আনারস চাষের বিকল্প নেই।